
গাইবান্ধায় ঘুমন্ত চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ভাতিজার বিরুদ্ধে
শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাতিজার বিরুদ্ধে। জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কেতকিরহাট মাঝিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা পলাতক রয়েছে।
নিহত শাহ জালালের স্ত্রী পারুল বেগম জানান, রবিবার গভীর রাতে কৌশলে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে আপন ভাতিজা গোলাম হোসেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আপন চাচা শাহ জালালের গলা কেটে ফেলে। গোঙানীর শব্দ শুনে শাহ জালালের স্ত্রী পারুল বেগম পাশের ঘর থেকে উঠে আসলে গোলাম হোসেন পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান শাহ জালাল।
নিহত শাহ জালালের ছেলে পাঞ্চু মিয়া জানায়,
যাতে কেউ তাকে ধরতে না পারে, সেজন্য তার বাবাকে হত্যার আগে বাহির থেকে প্রতিবেশীদের ঘরের দরজা আটকে দেয় গোলাম হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। পারিবারিক কলহের জের ধরে গোলাম হোসেন তার আপন চাচাকে হত্যা করে বলে দাবী নিহতের পরিবারের। এর আগে প্রায়ই গোলাম তার স্ত্রীকে মারধর করতো, চাচা শাহ জালালসহ প্রতিবেশীরা প্রতিবাদ করলে তখন থেকেই গোলাম ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে গোলামের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। পরে গোলামও ঢাকায় যায়। শনিবার হঠাৎ ঢাকা থেকে এসে পরদিনই চাচাকে হত্যা করে গোলাম।
খবর পেয়ে রবিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুরুল হুদা ও সিআইডির কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো ছুরি জব্দ করেছে পুলিশ। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুরুল হুদা। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ভাতিজা গোলাম হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply